আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব

বড় ভাইয়ের জুতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা কোথাও। তার চিৎকার-চেচামেচিতে আজ ঘুম থেকে একটু আগেই উঠতে হল। রীতিমতো আজও প্রথমেই মোবাইলটি চেক করি। সহসা মাথাটি চক্কর দিয়ে উঠল। বিছানা ছেড়ে তড়াক করে উঠে পড়লাম। অসংখ্য মিসড কলের মধ্যে শুধু সানজিদারই ১৩ টি। সাধারণত এতগুলি কল দেয়ার মানুষ সানজিদা নয়। নিশ্চয়ই আজ কোন বিপদ-আপদ পতিত হয়েছে, জরুরী প্রয়োজন অথবা কোন দু:সংবাদ আছে। অনেক অজানা সঙ্কা, ভয় নিয়ে কল দিতেই অন্য প্রান্ত থেকে জেদী ও অভিমানী কন্ঠ ভেসে উঠল। ৯ টা ৩০ মি. এর মধ্যে কুচিয়ামোড়া আসা চাই নয়ত তোমার খবর আছে। কথাটি বলেই সংযোগটি আচানক কেটে দিল। গোঁ ধরায় আমার কোন কথাই শোনলনা। প্রবোধ দেয়ার সময়, সুযোগ ও সাহস সবই হারিয়ে ফেললাম। ওর ছোট ছোট অভিমান, হাসি, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে কথা বেশ ভাল লাগে। তবে আজ ভিরমি খাওয়ার জোগাড়; বোঝলামনা কি হয়েছে। কিছুদিন ধরে শুনছি ওকে ওই কলেজের ভিপি ডিস্টার্ব করে আসছে প্রতিনিয়ত। সেই চিন্তা-ভাবনায় আশা আর আশঙ্কার দোলাচলে উত্তেজনার পারদ উঠানামা করছে। যে করেই হোক আজ ওর আবদার রক্ষা না করে নিস্তার নেই।
কি আর করা ঝোঁকের মুখে ও আবেগের তোড়ে বাধ্য হয়ে ঝটপট প্রয়োজনীয় কাজ- গোসল, খাওয়া-দাওয়া সেরে, তৈরি হয়ে এক প্রিয় ভাই মাসুদকে নিয়ে মটর সাইকেল যোগে রওয়ানা দেই। গন্তব্যস্থলে নির্ধারিত সময়ে আগে ৯ টা ২০ মিনিটেই আমরা চলে আসি।
সানজিদার সাথে দেখা করার অভিলাষ বহুদিন ধরেই হৃদয়ে পোষণ করছি। কোন সময়-সুযোগ, কুল-কিনারা, উপলক্ষ খোঁজে পাচ্ছিনা। ঠিক হল আমার জন্মদিনে সাক্ষাৎ হবে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এবার আমার জন্মদিন উদযাপনই হয়নি শুধু ওর আম্মুর অসুস্থাতার দরুন। সানজিদা আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। বাবার বন্ধুর মেয়ে হওয়ার সুবাদে আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া। সেই থেকেই ওর সাথে বেশ সখ্য গড়ে উঠে আমার। বয়সের ব্যবধান হলেও সানজিদার সাথে আমার বেশ বন্ধুত্ব সম্পর্ক। ওকে এত বেশি ভালবাসি যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। সানজিদাও আমাকে এত বেশি মিস করে যা ব্যাখ্যা করা অনাহুত। ও ক্লাশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী। সানজিদার কলেজের অধ্যক্ষসহ সমস্ত শিক্ষক ওকে ব্যাপক আদর-¯েœহ করে ভালবাসে। পরীবারের সবাই বুদ্ধিমতি হওয়ায় ওর প্রতি বেশ যতœবান। বন্ধুমহলেও বেশ জনপ্রিয়তা ও ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয় সানজিদার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের জন্য। ওকে একনজর দেখে যে কেউ চোখ ফেরাতে পারেনি এবং পারবেও না; আমার বিশ্বাস এমন। তাছাড়া অকৃত্রিম ভালবাসা, ¯েœহ-প্রীতি হৃদয় উজার করে দিবে বৈকি! যদিও খুব ফর্সা নয়। ওর নিটোল ধড়টি বেশ লম্বা নয়। চেহারায় যাদু আছে নি:সন্দেহে। মায়াবীনী ও উজ্জল শ্যামবর্ণের চেহারা। ওর কন্ঠে গান শোনলে যে কেউ পাগল হয়ে যাবে। বয়স বেশি নয়, মাত্র ১৭ বছর। মালখানগর কলেজের ইন্টার পরীক্ষার্থী। ওর এত রূপ ও গুণের অপূর্ব সমাহারের কারণে এত অল্প বয়সে এত মানুষের মন কাড়ছে যার ইয়ত্তা নেই। মাসুদ মন্ত্রমুগ্ধের মতো আমার কথা শোনছে। কি আর করা ঘড়ির কাটা ঠিক জায়গায় এখনও নড়ছেনা, সানজিদাও আসছেনা। ওর প্রতি আমার হৃদয়ে অনেক টান, ভালবাসা, প্রীতি সেই ছোটবেলা থেকেই। বর্ষায় আমাদের বাড়িতে আসলে বিকেল হলেই দুজনে গল্প জুড়ে দিতাম। বিলের ধারেও নৌকায় চড়ে বেড়িয়ে পড়তাম রং-বেরঙয়ের শাপলা তোলতে। শাপলা দিয়ে কত কিসিমের যে আংটি, কানের দুল ও মালা গাঁথতে জানতো এক্ষেত্রে ওর জুড়ি মেলা ভার।
সন্ধায় পড়তে বসলেই দ্বিধাহীন চিত্তে গলা খাঁকারি দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিত। মাঝে মাঝে হিহি করে দুই গালে টোল নিয়ে নির্দ্বিধায় চলে আসত একদম আমার পড়ার টেবিলে। আমিও নিরুপায় হয়ে ওর সব কান্ড সহ্য করতাম। নিজেই আমার আর্ট পেন্সিল নিয়ে যাচ্ছেতাই আঁকিঝুকি করত। একদম আমার ন্যাওটা হয়েছিল বিধায় এমনটি করেছে, পরে বুঝেছি। আজ সেই মিষ্টি, আদুরে, চঞ্চল, মিশুক, সুবোধ ও প্রিয় মানুষটি অনেক বড় হয়েছে। আমাকে তিক্ত-বিরক্ত করতে ঘন ঘন বেড়াতে আসেনা। গল্প করেও সময় নষ্ট করে না। ফুরসৎ কই? নিজেই গল্প লেখা শিখেছে। স্থানীয় অনেক পত্রিকায় এখন ওর লেখা সম্পাদকরা স্বাচ্ছন্দে প্রকাশ করছে। মোট কথা সানজিদার জীবনের মোড় ঘুরে গেছে। সম্ভাবনাময়ী লেখিকা, গল্পকার ও ছড়াকার হয়ে উঠেছে আমার সাথে পাল্লা দিয়ে। সবই সম্ভব হয়েছে ওর স্বপ্ন, আনন্দ-আশা, চেষ্টা-সাধনা, ত্যাগ-মহিমা, আগ্রহ, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কারণে। বছরে ২-১ বার আসে আমাদের বাসায়। যতই সানজিদার গল্প করছি ততই মাসুদ আবেগী হয়ে ওকে দেখার জন্য উতালা হয়ে উঠছে।
আচমকা সানজিদার বান্ধবী মোরশেদাকে সাথে নিয়ে হাস্যজ্জল বদনে ঠিক আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। আমরা তো আনন্দে গদগদ। চোখে কাজল দিয়ে আসাতে আজ ওকে অপূর্ব লাগছে। ওমা একি! সানজিদার হাতে র‌্যাপিং পেপারে মোড়ানো উপঢৌকন! ভিতরে কি আছে দেখে কারো বোঝার কোন জো নেই। আমার জন্মদিনে সানজিদা সরাসরি উইশ করতে পারেনি। সারপ্রাইজ দেয়ার জন্যই আমাকে নিয়ে এসেছে- এই যা। একগাল হাসি দিয়ে উপঢৌকনটি আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। অভিনব কায়দায় বলে উঠে ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’! আমিও ওর উইশ-উপঢৌকন আন্তরিকতার সহিত গ্রহণ করে অতি উৎসাহ ভরে থলির মধ্যে তা চালান করে দেই। সানজিদার মার্জিত রুচি, তীক্ষœ বুদ্ধি, সংযত ভাষা, বিনীত ব্যবহার মোটকথা ওর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বে আমাদের মুগ্ধ করে। আমরা ওদের কলেজের পিছনের মাঠের একপাশে দাড়িয়ে নিরন্তর গল্প জুড়ে দিলাম। মাঠটির চারিদিকে সবুজ দুর্বার গালিচা। আশপাশ গাছগাছালিতে ভরা। আর ফাঁক দিয়ে আমাদের মাথায় সূর্যের আলো পড়ছিল। নিবিড় ছাড়াঘেরা পরিবেশ। মন ছুয়ে যায়।
অকস্মাৎ একপাশে চটপটিওয়ালাকে দৃষ্টিগোচর হওয়ায় সানজিদা চটপটি খাওয়ার লোভ একদম সংবরণ করতে পারলনা। ঝটিতি ৪ প্লেট পরিবেশন করার অর্ডার করল চটপটিওয়ালাকে। মাসুদ এসবের ধার ধারে নাই। আমাদের পিড়াপিড়িতে অনিচ্ছা সত্তেও কোনমতে একটি গিলে। মাসুদের অবস্থা বেগতিক দেখে সানজিদা বাঁকা ঠোঁটে হাসি দিয়ে উদারতার ভাব দেখিয়ে সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে। ভারের মত ওর দুই প্লেট একাই পেটে জামিন দিতে দেখে হাসতে-হাসতে, কাশতে-কাশতে আমার দুচোখে অশ্রুধারা বয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ফিরে নিজেকে কোনমতে সামলে নিলাম। ইতোমধ্যে সানজিদার আরো ২ বান্ধবী বিথী ও মারিয়া আমাদের আড্ডায় যোগ দিল। ওর বান্ধবীরা সমঝদার হওয়ায় হাস্যরসের মাত্রা আরো বেড়ে গেল।
হঠাৎ গল্পে ব্যাঘাত ঘটিয়ে আমার মোবাইলে রিং বেজে উঠল। কাকতালীয়ভাবে পরখ করলাম সানজিদার কলেজের ভিপি আনোয়ারের নাম্বার। আমার সাথে দেখা করতে আসছে জানায়। বলে রাখা ভাল, আনোয়ারের সাথে অনেক আগ থেকেই আমার কথা হত মাঝে মধ্যে। ছোট ভাই হিসেবে ওকে নাম ধরেই সম্বোধন করতাম। সবাইকে রেখে আনোয়ারকে রিসীভ করে নিয়ে আসি। ভিপি যে সানজিদাকে ডিস্টার্ব করে তা না জানার ভান করে আনোয়ারকে পরিচয় করিয়ে দেই- ও হচ্ছে আমার প্রিয় ব্যক্তি সানজিদা। আর ওরা হচ্ছে সানজিদার ক্লাশমেট ও বান্ধবী।
এদিকে সানজিদার ক্লাশের সময় ঘনিয়ে আসছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লাশ শুরু হয়ে যাবে। এতক্ষণ মৌজে থাকায় সময় যে কিভাবে চলে গেল আমরা কেউই টের পাইনি। পরিমরি করে আমাদেরকে বিদায় দিয়ে সানজিদা চলে গেল। মূর্তির মত দাড়িয়ে ওর যাওয়ার দৃশ্য করুণভাবে প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম। এই মূহুর্তের জন্য আমি কখনই প্রস্তুত ছিলামনা। কিছু একটা বলতে চেষ্টা করলাম। পারলাম না। গলা জড়িয়ে গেল।

ঢেউ ও তার সমালোচন

বিক্রমপুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের মুখপত্র ‘ঢেউ’ নিয়েই আমার যত পর্যালোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা। কারো তল্পীবাহক হয়ে নয়, নিছক বাতবরণ-বাগাড়ম্বর করাও নয়, কোনো পুরস্কারের লোভেও নয়, তিরস্কারে লাঞ্ছিত হয়েও নয়, কারো সম্মানহানির উৎসবে মেতে উঠতেও নয়, সংগঠনের ১০ বছরের প্রয়াসকে নিন্দা জানাতেও নয়, নিরেট বিবেকের তাড়নায় অর্থাৎ মানবিক গুণে ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিনের সম্পাদকের ভুল ভ্রান্তি শোধরানো ও সংবিৎ ফিরানোর অভিপ্রায়ে। কবির ভাষায় সময় তো দাড়িয়ে থাকে না- সে গড়িয়ে চলে মাড়িয়ে যায় এবং কালের আবর্তে হারিয়ে যায়। এই হারানোর ইতিহাস লেখার জন্য কেউ কাউকে নির্দেশ দেয়নি। সে আপনা থেকেই কলম তুলে নিয়ে লিখতে থাকে চলার কথা, বলার কথা, সুখ-দুঃখ, কান্না-হাসির কথা। তবে আমি আজ আমার প্রিয় বিক্রমপুরের সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কলামিস্ট, লেখক, সমাজ ও পরিবেশ কর্মী ভাই ও বোনদের কাছে সম্প্রতি হাতে পাওয়া ঢেউ তা নিয়েই আমার যত কথা, যত আলোচনা।
যে কোন কাজে উৎকর্ষ লাভের জন্য চাই তীক্ষ্ণ মনযোগ, কাজের গুরুত্ব অনুধাবন, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা, দূরদর্শিতা, নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা ও ধারাবাহিকতা। সাহিত্য ম্যাগাজিনকে অপূর্ব, অতূলনীয় ও মানসম্মত করার জন্য প্রাজ্ঞ ও বিদগ্ধদের সহযোগিতা, উৎসাহ, প্রেরণা ও উদ্বুদ্ধ করণ একান্ত কাম্য। তাছাড়া যে যে বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী সে কাজ সম্পর্কে তার বিশেষ বুৎপত্তি ও যথেষ্ট অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সৃজনশীনাতার ক্ষেত্রে তার কোনমতেই নিজে নিজেই অভিজ্ঞ বনে যাওয়ার অবকাশ নেই। অন্যথায় সে বিষয়ে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞদের অনুসরণ, অনুকরণ করে, পরার্শ নিয়ে ও তাদের সাথে মিশে সেই শূণ্যতা পূরণ করার অবারিত সুযোগ রয়েছে বলে মনে করি। নিয়মিত পাঠভ্যাস যে কোন সম্পাদক, সাহিত্যিক, কলামিস্ট, লেখক ও ভাবুকের অজ্ঞতা, ভুল-ভ্রান্তি ও ধারণার অস্পষ্টতাকে দূর করে। কোন কিছুকে আরও সুখপাঠ্য ও চমৎকার করার জন্য অবশ্যই একগুঁয়েমী, আলস্য, অধৈর্য, তারাহুরাভাব, লোভ, হীনমন্যতা, দাম্ভিকতা, ভয় ও গ্রন্থবিমুখতা ত্যাগ করতে হবে।
চির সত্য কথা হল কুরআন ছাড়া পৃথিবীতে নির্ভুল ও নিখুত বলে কিছু নেই। তবে কিছু কাজে দৃষ্টিগোচর হওয়ার মত কিছু ভুল না শোধরালেই নয়। বিষয়টির ব্যাখ্যা শুরু করতে চাই। শুরুটি ঠিক বুকের ভেতর দুরু দুরু শব্দে সঙ্গীতের ধ্বনির মতো বেজে উঠে।
ঢেউ এর আগস্ট সংখ্যাটি হাতে পেয়ে সযত্নে সোকেসে রেখে দেই। আত্মার দংশনে, বিবেকের তাড়নায় ও লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার অভিলাষে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় বিরতি নিয়ে কয়েকবারে পুরো সংখ্যাটিই ধৈর্যসহকারে পড়ে শেষ করি। ম্যাগাজিনটির সাথে গত দুই বছর ধরে পরিচিত; তাও সদরে গিয়ে নিজ উদ্যোগে খুঁজতে থাকি বিক্রমপুর থেকে কি কি পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকী ও ম্যাগাজিন বের হয় সেই সুবাদে। আমার ব্যক্তিগত সমীক্ষা, গবেষণা ও অনুসন্ধানে প্রায় ২০টি পত্রিকার নাম বেরিয়ে আসে, যার মধ্যে অনেকগুলিরই রেজিস্ট্রেশন নেই। তার মধ্যে রেজিস্ট্রিকৃত মাসিক বিক্রমপুর নিয়মিত বের হচ্ছে প্রতিষ্ঠাকালীন ১৯৮১ সাল থেকে আজ অবধি। তিনমাস ধরে এই পত্রিকাটি ৬টি উপজেলার সরকারী সব বিভাগ, কিছু চিহ্নিত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজ কর্মী, পরিবেশ কর্মী, ব্যবসায়ী, মাসিক বিক্রমপুরের গ্রাহক ও এজেন্টদের হাতে পৌঁছানো হয়। মুন্সিগঞ্জের কাগজও নিয়মিত বের হয়ে শুধু ৬ উপজেলার টিএনও ও থানার গন্ডি পর্যন্ত সিমাবদ্ধ। এছাড়া বিভিন্ন অকেশনে ব্যপকহারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের হাতে দৈনিকটির সংখ্যা চলে যায়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এদুটি ছাড়া মুন্সিগঞ্জ থেকে নিয়মিত কোন পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকী বা ম্যাগাজিন বের হয়ে সব উপজেলার দোরগোড়ায় পৌঁছে এমন তথ্য আমার কাছে অনুপস্থিত।
সংখ্যাটি পড়ে প্রথমেই আমার কাছে কয়েকটি ভুল চিহ্নিত হয়। মাসিক বিক্রমপুরের লেখক ও পাঠকদের সাথে তা ব্যক্ত ও শেয়ার না করার লোভ একদম সামলাতে পারছিনা। আর তা হল- ১.ভাল মানের স্থানীয় লেখক (সৈয়দ টিপু সুলতান, নূহ-এ-আলম লেনিন, এমদাদুল হক মিলন প্রমুখ), সাহিত্যিক ও সাংবাদিকের লেখা অনুপস্থিত, ২.ভালভাবে যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনা না করেই সংখ্যাটি বের করা হয়েছে, ৩.অন্য জায়গায় প্রকাশিত লেখা এখানে হেডিং পরিবর্তন করে ছাপানোর নজির রয়েছে ও ৪.বানানের ক্ষেত্রে কিছু প্রিন্টিং ও এডিটিং ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। চলতি সংখ্যাটির মান কমানোর পিছনে সবগুলি কারণেরই কমবেশি অবদান রয়েছে।

একজন সম্পাদকের জন্য খুবই লজ্জার বিষয় হচ্ছে অন্য পত্রিকার লেখা নিজেরটিতে প্রকাশ করা। একজন স্থানীয় সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে নিজ উদ্যোগে স্থানীয় সব পত্রিকার খোজ-খবর নিজ স্বার্থে রাখা উচিত বলে আমি মনে করি। পাঠকের দৃষ্টিতে এখানে তার অনভিজ্ঞতা, অদক্ষ্যতা, অযোগ্যতা, অপরিণামদর্শিতা ও অজ্ঞতাই স্পষ্ট প্রতিয়মান হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়তই যদি এমন হতে থাকে তাহলে তার উদ্দেশ্য পুরোপুরি উবে যাবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের অন্যতম উপায় হচ্ছে ভুল (নিজের ভুল অথবা অন্যের ভুল) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। আমরা জানি ছোট ছোট ভুল থেকে একটি সময় বড় কোন ভুল বা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। আর ব্যর্থতা হল সফলতার যাত্রাপথে একটু বিরতি মাত্র। অনেকে বলেন ব্যর্থতাই সফলতার ভিত্তি। তবে স্বপ্নচারীদের থেমে গেলে চলবেনা। ধৈর্যসহকারে এই সমস্ত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে সফল হওয়াই একজন দক্ষ সম্পাদকের কাজ।
সাহিত্য সাময়িকী ঢেউ এর বর্তমান আগস্ট-১৩ সংখ্যায় লেখকের দৃষ্টিতে মাত্র তিনটি লেখা চমৎকার হয়েছে যা অস্বিকার করার জোঁ নেই। যথা- ১.সালাম আজাদের ভাঙ্গামঠ ও গুরু-শিষ্য সংবাদ, ২.শ্রীনগরের লালা বংশ ও ৩.একটি নষ্ট রাতের কষ্ট । ৬২ পৃষ্ঠার ম্যাগাজিনের ভিতর ৪৮ জন নবীন ও প্রবীণ লেখকের ৫৫ টি লেখা স্থান পেয়েছে। এ সংখ্যায় ২ জন লেখককে ১৮ পৃষ্ঠা না দিয়ে, ৯ জন লেখককে ২ পৃষ্ঠা করে ৯ টি বাছাইকৃত লেখা দেয়া হলে ম্যাগাজিনটির মান আরও সহজবোধ্য, প্রাঞ্জল, রুচিশীল, মার্জিত ও উন্নত হত। ম্যাগাজিনটির স্বকীয়তা বজায় রেখে সম্পাদকের সদিচ্ছায় ভাল লেখে এমন আরো লেখকের লেখা সন্নিবেশিত করা যেত। লেখার সাথে যুৎসই চিত্র বিদ্যমান থাকলে পাঠক সেটি না পড়ে এরিয়ে যাওয়ার দু:সাহাস করত না। সমালোচকের ধারণা মতে সম্পাদকের হীনমণ্যতা না থাকলে পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি করা যেত। যেহেতু বিক্রমপুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের পক্ষ থেকে বের হচ্ছে তাই ম্যাগাজিনটি কলেবর বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই পাঠকের পক্ষ থেকে পরামর্শ হল এখানে স্থান পাওয়া প্রবন্ধ, কবিতা, আলোচনা, ছোট গল্প, ইতিহাস ও উপন্যাসের সাথে যুগের চাহিদার প্রেক্ষিতে নাটক, সায়েন্স ফিকশন, রম্য রচনা, কৌতুক, ধাঁধাঁ, ছোটদের আঁকিঝুকি, প্রতিবেদন, তথ্যচিত্র, নিবন্ধ, কলাম, বিক্রমপুরের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও ঐতিহ্য (যেমন- খোদাই সিন্নি, পিনিস, পালকি, ঢেকি, গস্তি নৌকা, পোড়াগঙ্গা, রজত রেখা, কাজল রেখা ইত্যাদি) সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত ঢেউ এ তুলে ধরা উচিত।
ঢেউ এর সম্পাদক ও মাসিক বিক্রমপুরের পাঠকবৃন্দ আমাকে ভুল বুঝে থাকলে ক্ষমা করবেন। আমি চাই মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত প্রত্যেকটি সাহিত্য সাময়িকী, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা নির্ভুল, নিখুত, মার্জিত, মানসম্পন্ন ও সর্বজন গ্রহণীয় হয়ে উঠুক।
২০০৩ সাল থেকে আমি বন্ধুদের খ্যাপানোর জন্য ব্যঙ্গাত্মক কিছু সাহিত্যিক কর্ম খেলাচ্ছলে শুরু করি। সেই থেকে আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকে আজও কবি/সাহিত্যিক বলে সম্বোধন করে। তৎকালে আমার লেখা দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, মাসিক আলোর দ্বীপ, মাসিক আদর্শ নারী, মাসিক কিশোর কন্ঠ ইত্যাদিতে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে আমি দৈনিক সংবাদে একজন প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছি। এছাড়া একটি অনলাইন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টারের দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। বিক্রপুরের ঐতিহ্যবাহী মাসিক বিক্রমপুরে কাজ করে অনেক কিছু নতুন করে শিখতে হয়েছে, যেটা আমার অভিজ্ঞতার ঝুলিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে।
বেগার পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ ও পরামর্শ দেখে অনেকেই দাঁত কেলিয়ে হি হি করে হাসবে তবুও সেসবে পাত্তা দেয়ার মত মানসিকতা মাসিক বিক্রমপুরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের একদম নেই। তবে এই লেখা যদি ঢেউ নতুন পথে এগিয়ে নতুন নতুন সংখ্যা এখন থেকে বের হয়ে নিয়মিত সর্বস্তরের পাঠকের হাতে পৌঁছে তাহলে এর মাঝেই আমার স্বার্থকতা খুঁজে পাব।

-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, মাসিক বিক্রমপুর (০১-১০-২০১৩ইং) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত

Dream বা স্বপ্ন

আমি স্বপ্ন দেখতে ভীষণ পছন্দ করি। আর আমার সাথে কেউ তার স্বপ্ন শেয়ার করলে পুলকিত হই। স্বপ্ন দেখতে পারে আমাদের মাঝে এমন লোক কমই আছে, আর স্বপ্ন দেখাতে পারে তার সংখ্যা আরও কম। স্বপ্ন দেখা আমাদের জন্মগত অধিকার, ভাগ্যের ব্যাপার নয়। স্বপ্ন এমনভাবে দেখতে হবে যাতে আমাদের ঘুম কেড়ে নেয়। স্বপ্ন দেখলেই চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আমরা স্বপ্ন কাউকে চুরি করতে দিব না বা কোন ভাবেই চুরি হতে দিবনা।

যারা স্বপ্ন চোর:-
পরিবার (স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন)
বন্ধু-বান্ধব
কাজিন
পাড়া-প্রতিবেশী
রুমমেট-ক্লাশমেট
কলিগ

যেভাবে স্বপ্ন চুরি হয়:-
যখনই আমরা কোন চিন্তা করি বা স্বপ্ন দেখি তখনই তারা বলতে শুরু করে পাগল হইয়া গেছে। এই সমস্ত পাগলামি বাদ দাও। অবিশ্বাস্য ব্যাপার। অসম্ভব এটি তোমার দ্বারা হবে না। জীবনে কি কম দেখেছি নাকি তুমি এটা পারবে। অনেকে হাসতে থাকে, টিজ করে আর বলে অভিজ্ঞতায় আমার চুল পেকে গেছে, কত দেখলাম তোমার মত। বলে রাখা ভাল, তার মত পাকা চুল ভেড়ার গায়েও আছে তাহলে কি ভেড়া অভিজ্ঞ নয়! স্বপ্ন দেখাটা পাগলামী নয়, না দেখাটাই পাগলামী। যারা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে তারাই পাগল।

স্বপ্ন না দেখার পরিণতি:-
কোন জাতি বা দেখের উন্নতি ঘটে না।
হতাশা ও বিপর্যয়/দুর্দশা নেমে আসে।
কর্মপ্রেরণা হারিয়ে ফেলে মানুষ।
মানুষ দরিদ্র হয়ে যায়।
কোন কাজেই সফলতা আসে না।

স্বপ্ন দেখার ফল:-
এন পবিত্র থাকে।
বেচে থাকার একটি কারণ তৈরি হয়।
কাজে নামার উপায় তৈরি হয়।
কাজে ক্লান্তি আসে না অর্থাৎ দীর্ঘদিন কাজ করার অনুপ্রেরণা আসে।
আমাদের ভিশন ক্লিয়ার হয়।
সফলতার ক্ষেত্রে বাধাগুলি দূর হয়।
এনটি-বডি তৈরি হয়।
সফলতা আসে আত্মবিশ্বাস থেকে, আত্মবিশ্বাস আসে অভিজ্ঞতা থেকে, অভিজ্ঞতা আসে অধ্যাবসায় থেকে, অধ্যাবসায় আসে লক্ষ্য থেকে আর লক্ষ্য আসে স্বপ্ন থেকে। বুঝা গেল স্বপ্নই সফলতার কুড়েঘর।

বপ্ন বড় করার জন্য যা করা দরকার:-
ইমাজিনেশন করতে হবে।
মেডিটেশন করতে হবে।
মটিভেশনাল বই পড়তে হবে।
মটিভেশনাল ভিসিডি দেখতে হবে।
অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং উচু ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষের সাথে মিশতে হবে।
যারা বড় বড় স্বপ্ন দেখে তাদের সাথে মিশতে হবে।
যারা গোছালো, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আছে, পজিটিভ, ক্রিয়েটিভ, ও প্রো-একটিভ তাদের সাথে মিশতে হবে।
বড় ও প্রশস্ত রাস্তায় যেতে হবে।
সমুদ্রে যেতে হবে।
পাহার পর্বতে যেতে হবে।
বড় সমাবেশ, মিছিল, মেরাথন ট্রেনিং ও বড় হাট-বাজারে যেতে হবে।
সেলিব্রেশন প্রোগ্রামে যেতে হবে।
ইনটারনেট সার্স করতে হবে।

Dream বা স্বপ্ন কি?
Dreams are not a matter of chance but a matter of choice- David Copperfield
D=Determination
R=Responsibility
E=Enthusiasm
A=Attainable
M=Measurable

স্বপ্নের প্রকারভেদ:-
স্বপ্ন ২ প্রকার। যথা-
ব্যক্তিগত স্বপ্ন
পেশাগত স্বপ্ন

ব্যক্তিগত স্বপ্ন:-
ঋণ পরিশোধ।
পরিবারের সাথে বেশি সময় দেয়া।
ব্যক্তি স্বাধীনতা।
সময়ের স্বাধিনতা।
আর্থিক স্বাধিনতা।
দেশ-বিদেশে ভ্রমণ।
মৃত্যুর পূর্বে এক লক্ষ বন্ধু তৈরি করা।
ব্যক্তিত্বের বিকাশ।
নেতৃত্ব, প্রভাব অর্থাৎ ক্ষমতা।
সম্মান।
অপরকে সহযোগিতা।
গাড়ি, বাড়ি ও নারী।
সুখ-শান্তি।
ট্রেইনার, মটিভেটর ও নেটওয়ার্কার হওয়া।

পেশাগত স্বপ্ন:-
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও লয়ার হওয়া।
সাংবাদিক ও সাহিত্যিক হওয়া।
পুলিশ, র‌্যাব, বিডিয়ার, আর্মি ও গোয়েন্দা অফিসার হওয়া।
শিক্ষক ও প্রফেসর হওয়া।

স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার পদ্ধতি:-
আত্মবিশ্বাসের সহিত নিজের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলা।
স্বপ্ন লিখে রাখতে হবে (ডাইরিতে, দেয়ালে, আয়নার সামনে, পড়ার টেবিলে ও বেডরুমে)।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে।
ত্যাগী হতে হবে (অজুহাত, আলস্য, রাগ, ইগু, হীনমন্যতা, গল্প-গুজব, খেলা-ধুলা, মুভি দেখা ও বেশি ঘুম পরিত্যাগ করা)।
প্রতিশ্রুতি, কাজ ও অর্জন করতে হবে।
বিলাসবহুল গাড়ি, মনোরম বাড়ি দেখার পর বলতে হবে ক’দিন পর এরকম আমারও থাকবে।
ভাল লাগার বিষয় ও কেন সফল হব তাও আমাদের লিখে রাখতে হবে।
আমাদের ইচ্ছাগুলি নিয়ন্ত্রণ ও সময় অপচয় রোধ করতে হবে।
গর্বপরি আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, জীবন গড়ার জন্য, সফলতা অর্জনের জন্য একটি অঙ্গিকার থাকতেই হবে। যে জীবনের প্রতি, নিজের কাজের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, তাকে আমরা বলি প্রতিশ্রুতিশীল। একজন প্রতিশ্রুতিশীল যুবকই পারে সাফল্যের স্বপ্ন দেখতে। কোনও কাজ নিষ্পত্তি করার দৃঢ় অঙ্গীকার নির্মাণ করতে হয় দু’টি স্তম্ভের উপর। সে দুটি হলো সততা ও বিজ্ঞতা। যদি আমাদের ক্ষতিও হয় তবু অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকার নামই সততা। আর বিজ্ঞতা হচ্ছে, যেখানে ক্ষতি হবে সেই রকম বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ না হওয়া।
কোথায় ছিলাম বা কোথায় আছি সেটা বড় কথা নয়- কোথায় যেতে চাই সেটাই মূখ্য বিষয়।
তাহলে দেখব, আমরা সত্যি সত্যিই কিছু একটা কওে ফেলেছি। কি করেছি তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কি হয়েছি! একজন সফলকাম লোকই স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিধারণ করে।